বাবার সেই কথাই আজ আমার জীবনের মন্ত্র – পশুপাখি কখনো বেইমানি করে না

by অ্যাডমিন
0 comments

“প্রাণী কখনো প্রতারণা করে না – গাভি দুধ দেবে, মুরগি ডিম দেবে, ছাগল বাচ্চা দেবে।” বাবার এই কথাগুলোই জীবন বদলে দিয়েছিল রংপুরের হামিদুর রহমানের। প্রতারণার শিকার হয়ে যখন সব হারানোর মুখে, তখন বাবার উপদেশে শুরু করেন প্রাণিসম্পদ খামার। আজ তাঁর এনআর খামারে ৫০টি গরু, ১০০টি ছাগল, মাছ ও হাঁসের সমন্বিত চাষাবাদ – মাসে আয় ২ লাখ টাকা!

ব্যর্থতা থেকে ফিনিক্সের মতো জেগে ওঠা

২০১২ সালে সৈয়দপুরে গার্মেন্ট ব্যবসায় ২২ লাখ টাকার প্রতারণার শিকার হন হামিদুর। বিষণ্ণতায় ডুবে যাওয়া এই এমবিএ ডিগ্রিধারীকে বাবা মোফাজ্জাল হোসেন বলেন: “জমি আছে তো? পশুপালনই তো তোমার মুক্তি।” ২০১৮ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির চাকরি থেকে জমা টাকায় কিনে ফেলেন ৬টি গাভি। আজ সেই বিনিয়োগ ১ কোটিতে পৌঁছেছে!

সমন্বিত খামারের সাফল্যের রেসিপি

তারাগঞ্জের ভীমপুর হাজীপাড়ায় ২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন আদর্শ খামার:

  • গরু শেড: স্বয়ংসম্পূর্ণ দুটি শেডে ৫০টি গরু (২০টি গাভি, ৩০টি ষাঁড়)

  • ছাগল মাচা: উন্নত জাতের ১০০ ছাগল

  • জৈব চাষ: ৫০ শতক জমিতে নেপিয়ার ঘাস

  • মাছ-হাঁস: ১ একরের দুটি পুকুরে কার্প ও হাঁস চাষ

“এসি রুমের চাকরির চেয়ে খামারের কষ্টই বেশি শান্তি দেয়,” বলছেন হামিদুর। তাঁর স্ত্রী নিলুফা বেগমের কথায়: “গ্রামে থেকে মাসে লাখ টাকা আয়, পাশাপাশি ৭ জনের কর্মসংস্থান – এর চেয়ে সুখ আর কী হতে পারে?”

অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা

হামিদুরের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে জুয়েল ইসলাম, আবদুল মজিদরা গড়েছেন নিজেদের খামার। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন: “তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে – প্রাণিসম্পদই পারে গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দিতে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

  • কর্মসংস্থান বাড়িয়ে ৫০ জনে উন্নীত করা

  • ডেইরি ফার্ম স্থাপন

  • হ্যাচারি ব্যবসায় সম্প্রসারণ

“বাবার সেই কথাই আজ আমার জীবনের মন্ত্র – পশুপাখি কখনো বেইমানি করে না,” বলছেন হামিদুর। তাঁর এই গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়ে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগই পারে জীবনকে গড়ে তুলতে।